ঢাকা, ২০ জুন — বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার জানিয়েছে। প্রতিবেশী ভারতকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বাদ দিয়েই এই সফর সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ঢাকার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বিএসএস জানিয়েছে, রহমান রোববার মালয়েশিয়া সফরে যাবেন এবং পরের দিন চীনে যাবেন।
কর্মকর্তাদের মতে, বেইজিংয়ে বাণিজ্য ও অবকাঠামো প্রকল্পগুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য হলো খনন, বাঁধ নির্মাণ ও সেচের মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী পুনরুদ্ধার ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিএসএস জানিয়েছে, "সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।"
মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ৮ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন, যারা দেশটির বিদেশি কর্মশক্তির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
বাংলাদেশ মূলত ভারত দ্বারা স্থলবেষ্টিত, তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও নয়াদিল্লির মিত্র শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
রহমান নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ওই অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার পতনের পর থেকে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশ পরিচালনা করে আসছিল।
তবে উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান। অভ্যুত্থান থেকে পালিয়ে আসার পর হাসিনা ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বাংলাদেশ বারবার তার প্রত্যর্পণ চাইছে।
সীমান্তেও সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ভারত যাদেরকে অবৈধ অভিবাসী মনে করছে তাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে। বিশ্বের দুটি সর্বাধিক জনবহুল দেশ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। — এএফপি
